দুনিয়া মুমিনদের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র

দুনিয়া মুমিনদের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র ইমান এনেছো বলে ছেড়ে দেওয়া হবে না,পরীক্ষা করা হবে।...পরীক্ষা করা হবে জলে-স্হলে বিপর্যয় সৃষ্টি করে।ইবলিশ মানুষের জন্য এক পরীক্ষার বিষয়।সর্বপ্রথম আদম অআঃ এবং মা হাওয়া অআঃ ইবলিশ দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছিলেন হাবিল পরীক্ষিত হয়েছিলেন কাবিল দ্বারা।মাঝে মাঝে আল্লাহর পক্ষ হতেও ঈমানের পরীক্ষা হয়ে থাকে।হযরত হোসেন রাদ্বিয়াল্লাহু অআনহু বলেন,দুনিয়া পরীক্ষা কেন্দ্র।তিনি নিজেও কারবালা প্রান্তরে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন।মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সবচেয়ে বেশী কষ্ট করেছেন নবী-রসূল অআলাইহিমুস সালামরা,তারপর যাঁর ঈমান মজবুত তারা। হযরত অআইয়ুব অআঃকে অআঠারটি বছর রোগাক্রান্ত করে,ইউনুছ অআঃ-কে মাছের পেটের মধ্যে, হযরত ...কে করাত দিয়ে কাটার মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। সাধারণ মানুষকে অধিক অভাব অনটন,ক্ষুধা,দারিদ্রতা,কন্যা সন্তান দ্বারা,বেশী সন্তান দ্বারা,নিঃসন্তান দ্বারা,ঝড়-বৃষ্টির দ্বারা ফসল হানি দ্বারা,নদী ভাঙ্গন,বন্যা,ঝড়-তুফান দ্বারা সাধারণতঃ পরীক্ষা হয়ে থাকে। অনেক সময় অআল্লাহর বিধানাবলী দ্বারাও পরীক্ষা নেওয়া হয়।অআমানতু বিল্লাহ বলে সাক্ষ্য দিলাম অআল্লাহর অস্তিত্বের।এর পরীক্ষা হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামায।বদরন একমাস রোজা,অআর্থিক সামর্থ্য অনুসারে যাকাত,জীবনে একবার হলেও অআর্থিক সামর্থ্য অনুসারে হজ্ব করা ইত্যাদি। মানুষ আল্লাহর বান্দা,আল্লাহর দাসানুদাস, গোলামের ঘরের গোলাম। ইচ্ছায়-অনিচ্ছা উভয়ভাবে মানুষ এই গোলামী করে থাকে।অনিচ্ছায় এই পৃথিবীতে মানব শিশুর অআগমন, অনিচ্ছায় নির্গমন অর্থাৎ মৃত্যুে বরণ।শরাহ-শরীয়ত দ্বারাও পরীক্ষা নেওয়া হয়।হালাল-কে হারাম জানা, হারাম-কে হালাল জানা কুফরি।অথচ রোজার সময় দিনের বেলায় হালাল-কে হারাম জানা ঈমান,ইসলাম,মুসমানিত্ব।বিনা ওজরে রমজান মাসে রোজা ভাঙলে একাধারে ষাট দিন রোজা রাখার বিধান, সফরে রোজা ভাঙা, নামায কসর করা অআল্লাহর বিধান, পানি ওযুর অপরিহার্য শর্ত, পানির অভাবে পানি ছাড়া তায়াম্মুম শরীয়তের অংশ। অআমরা ঈমান এনে থাকি রসূল সাঃ এর প্রতি। আতিউল্লাহর পাশাপাশি আতিউর রসূলও মুমিনদের জন্য জরুরী।মধু-কদু খেয়ে সুন্নাত পালন আকর্ষনীয় বিষয় বটে।তায়েফের মত পাথর খাওয়া,ওহুদের ময়দানে দান্দান মুবারক শহীদের মতো সুন্নাত কঠিন বটে।তাওহীদী জজবায় একবার খানায়ে কাবা তাওয়াফ কালীন ইসলামের দ্বিতীয় মহান খলিফা ওমর ইবনে খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায় হাজরে আসওয়াদ চুমু দেওয়া। কারণ, এটি জান্নাতের এক টুকরা পাথর মাত্র।আতিউর রসূলের কথা বিবেচনা করে ওমর রা।হাজরে অআসওয়াদ-কে লক্ষ্য করে এই বলে চুমু দেনঃ হে হাজরে অআসওয়াদ,তুমি নিছক পাথর ব্যতিত কিছু নও।মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চুমু দিতে দেখেছি বলে দিচ্ছি। সাফা মারওয়া সাঈ করা অআল্লাহরই বিধান। এই বিধান জারির সময় মহান আল্লাহ একথা বলতে বাদ দেননি যে,এতে কোনো দোষ হবে না। হাজরে অআসওয়াদ চুমু যেমন রিসালাতের সাক্ষ্যের পরীক্ষা তেমনি সাফা মারওয়া সাঈ কিংবা খানায়ে কাবা তাওয়াফও একটি তাওহীদী পরীক্ষা।ঢাআঃ-কে সিজদাহর হুকুমের বরখেলাপ হযরত অআজাজিল অআলাইহিস সালামকে মরদুদ শয়তানে পরিণত করেছে।আমরা যদি অআতিউল্লাহ, অআতিউর রসূলের কারণে কিংবা হাজরে আসওয়াদকে মহানবি সঃ এর অনুকরণে অনুসরণে চুমু না দিই কিংবা আতিউল্লাহর কারণে রমজান মাসে দিনের বেলায় হালাল-কে হারাম না জানি ‌কিংবা অনুমতি থাকা সত্ত্বেও সফরে নামাজ কসর বা সংক্ষিপ্ত না করি, কিংবা সাফা মারওয়া সাঈ কিংবা খানায়ে কাবা তাওয়াফ না করি তাহলে ঈমানের পরীক্ষায় ইবলিসের মতো ফেল করতে হবে।

Comments

Popular posts from this blog

আমরা মানুষঃ এক, অভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জাতিসত্বার অধিকারী-পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী